Home / জানা অজানা / সাপ সম্পর্কে অবাক করা তথ্য যা শুনলে মাথা ঘুরে যাবে।

সাপ সম্পর্কে অবাক করা তথ্য যা শুনলে মাথা ঘুরে যাবে।

সাপ সম্পর্কে অবাক করা তথ্যঃ সাপ প্রকৃতপক্ষে মানুষ শিকার করে না এবং সাপকে কোনো কারণে উত্তেজিত করা না হলে বা সাপ আঘাতগ্রস্থ না হলে তারা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। ব্যাতিক্রম ছাড়া কনস্ট্রিক্টর ও বিষহীন সাপগুলো মানুষের জন্য কোনো হুমকি নয়। বিষহীন সাপের কামড় মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, কারণ তাদের দাঁত মূলত কোনো কিছ আঁকড়ে ধরা ও ধরে রাখার মতো। বর্ষার পানি মাটির গর্তে ঢুকলে বেঁচে থাকার জন্য সাপ বের হয়ে আসে এবং মানুষকে দংশন করতে পারে।

এখন পর্যন্ত যতোদূর জানা যায়, সাপের সর্বমোট ১৫টি পরিবার, ৪৫৬টি গণ, এবং ২,৯০০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। এদের আকার খুব ছোট, ১০ সে.মি. (থ্রেড সাপ) থেকে শুরু করে সর্বচ্চো ২৫ ফুট বা ৭.৬ মিটার (অজগর ও অ্যানাকোন্ডা) পর্যন্ত হতে পারে। সম্প্রতি আবিষ্কৃত টাইটানওবোয়া (Titanoboa) সাপের জীবাশ্ম প্রায় ১৩ মিটার বা ৪৩ ফুট লম্বা। বিষধরদের জন্য বিখ্যাত হলেও বেশীরভাগ প্রজাতির সাপ বিষহীন এবং যেগুলো বিষধর সেগুলোও আত্মরক্ষার চেয়ে শিকার করার সময় বিভিন্ন প্রাণীকে ঘায়েল করতেই বিষের ব্যবহার বেশি হয়।

কিছু মারাত্মক বিষধর সাপের বিষ মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুকি বা মৃত্যুর কারণ ঘটায়।একটি সাপ যখন কাউকে আক্রমণ করে তখন তার গতি এত বেশি থাকে যে, তা আপনার চোখের পলক ফেলার সময়ই চারবার ছোবল মারার জন্য যথেষ্ট। শুধু তাই নয়, সাপের রয়েছে দীর্ঘ সময় শিকারের জন্য ওত পেতে থাকার মতো ক্ষমতা। আর এ সময় তারা এতটাই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয় যে নিজে থেকে জানান না দিলে তা অন্য কেউ বুঝতে পারে না।

আরো পড়ুনঃ ডানা ছাড়াই উড়তে পারে যেসব প্রাণী – জানা অজানা বিভিন্ন তথ্য

এসব নানা কারণে সাপ ‘অতীন্দ্রিয় ক্ষমতাধর’ বলেই মনে করছেন গবেষকরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি।বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ শিকারী সাপের অন্যতম হলো ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‌্যাটলস্নেক। এটি ঘাসের জঙ্গলে অত্যন্ত দক্ষভাবে লুকিয়ে থাকতে পরদর্শী। এগুলো স্বাধীনভাবে বাঁচতে পছন্দ করে। ঝোপ ও জঙ্গলে লুকিয়ে থাকে এবং সুযোগ পেলে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে শিকার ধরার জন্য তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতেও পারদর্শী। কোনো কোনো সাপ দীর্ঘ দুই বছর ধরে এ জন্য অপেক্ষায় থাকতে পারে। তবে কোনো শিকার পাওয়া গেলে তারা সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রাণী হয়ে উঠতে একটুও দেরি করে না।সাপের ক্ষমতা কখনোই আকার কিংবা আকৃতির ওপর নির্ভর করে না।

যে সাপের গতি যত বেশি, সে সাপ তত দক্ষ। এ গতিই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।সাপ কাউকে আক্রমণ করলে একবার ছোবল দিতে তার সময় লাগে ৪৪ থেকে ৭০ মিলিসেকেন্ড। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। অন্যদিকে মানুষের একবার চোখের পলক ফেলতে সময় লাগে ২০০ মিলিসেকেন্ড। এ কারণে সাপের চারবার ছোবল দিতে যত সময় লাগে সে সময়ে মানুষ একবার চোখের পলক ফেলতে পারে। মানুষ যদি সাপের মতো এত দ্রুতগতি অর্জন করে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে অচেতন হয়ে পড়ে।এ গবেষণায় আরও জানা গেছে, সাপের এ দ্রুতগতি অর্জনের পেছনে কাজ করছে তাদের অত্যন্ত কার্যকর পেশি।

মানুষের দেহে রয়েছে ৭০০-৮০০ পেশি। অন্যদিকে সাপের রয়েছে ছোট ছোট ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ পেশি। তবে মানুষের পেশিগুলোর তুলনায় সাপের পেশি এত কার্যকর হওয়ার কারণ কী, সে বিষয়টি এখনও সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেননি গবেষকরা। তবে তারা ধারণা করছেন সাপের পেগিুলো একত্রে সংযুক্ত থাকায় তা রাবার ব্যান্ডের মতো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে।সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা সাপের এসব বিষয় গবেষণা করে অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানার গবেষক ডেভিড পেনিং এ বিষয় গবেষণার জন্য বেশ কয়েক মাস র‌্যাটলস্নেক পর্যবেক্ষণ করেন। তারা স্পিড ক্যামেরাসহ নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সাপের আক্রমণের সময়ের গতি পরিমাপ করেন।

আরো পড়ুনঃ মৃত সাগরের রহস্য – বিস্ময়কর যে সাগরে কেউ ডুবে না

এ বিষয়ে ডেভিড পেনিং বলেন, ‘আমরা যে প্রাণীর কথা বলছি তা তার শিকারকে আক্রমণ ও তার কাছে পৌঁছাতে এত কম সময় ব্যবহার করে যে, সে আগে বুঝতেও পারে না যে তাকে আক্রমণ করা হয়েছে।’তিনি বলেন, এটি শুধু র‌্যাটলস্নেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। বিশ্বের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সাপের প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে পাতলা থেকে শুরু করে বিশালাকার অজগর পর্যন্ত সাপের প্রায় একই ক্ষমতা দেখা গিয়েছে।উল্লেখ্য বিষধর সাপ দংশনের লক্ষণগুলো হচ্ছে­ বমি, মাথাঘোরা, কামড়ানোর স্খানে ফোলা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, চোখে ডাবল দেখা, ঘাড়ের মাংসপেশী অবশ হয়ে ঘাড় পেছনের দিকে হেলে পড়া।

এমন হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। হাসপাতালে নেয়ার আগে আক্রান্ত জায়গা নাড়াচাড়া করা যাবে না। হাত বা পায়ে কামড় দিলে হাতের পেছনের দিকে কাঠ বা বাঁশের চটা বা শক্ত জাতীয় কিছু জিনিস রেখে শাড়ির পাড় বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে বেঁধে দিতে হবে। আক্রান্ত জায়গা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে। লক্ষ রাখবেন বেশি টাইট করে বাঁধা যাবে না। বাঁধলে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়ে গ্যাংগ্রিন হতে পারে।

বিষ শিরা দিয়ে নয়, লসিকাগ্রন্থি দিয়ে শরীরে ছড়ায়। সাপে কাটা রোগীকে ওঝা-বৈদ্য বা কবিরাজ না দেখিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্খ হাসপাতালে নিয়ে যান। আক্রান্ত জায়গায় কাঁচা ডিম, চুন, গোবর কিছুই লাগাবেন না। এতে সেল্যুলাইটিস বা ইনফেকশন হয়ে রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারে।

Check Also

স্মার্ট প্যান্টি

ধর্ষণ রুখতে স্মার্ট প্যান্টি তৈরি করল ভারতীয় ছাত্রী, খুলবে পাসওয়ার্ডে!

সাত বছরের শিশুর সঙ্গে দুষ্কর্মের ঘটনা মন ভেঙে দিয়েছিল ১৯ বছরের সিনু কুমারীর। তখন থেকে …