Home / জানা অজানা / ডানা ছাড়াই উড়তে পারে যেসব প্রাণী – জানা অজানা বিভিন্ন তথ্য

ডানা ছাড়াই উড়তে পারে যেসব প্রাণী – জানা অজানা বিভিন্ন তথ্য

জানা অজানা বিভিন্ন তথ্যঃ প্রাণী জগতে যারা উড়তে পারে তাদের বলা হয় পাখি। আর এই পাখিদের ডানা আছে। সেই ডানা বাতাসে মেলে তারা উড়ে বেড়ায় আকাশে। তবে ব্যাতিক্রমও আছে। ডানা থাকার পরও এমন অনেক পাখিই আছে যারা উড়তে পারে না। তবে পাখিদের যেমন ব্যাতিক্রম আছে মানে ডানা থাকার পরেও যেমন অনেক পাখি উড়তে পারে না তেমনি ব্যাতিক্রম আছে অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও। মানে ডানা নেই এমনকি পাখিও নয় তবুও উড়ে বেড়াতে পারে পাখির মতোই। (কি ভাই, মজা লন? ডানা ছাড়া আবার উড়ে কেমনে?!) জানতাম বিশ্বাস হবে না কিন্তু ভাই অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা সত্য। প্রাণীজগতে এমন অনেক প্রাণীই আছে যারা ডানা ছাড়াই উড়তে পারে প্রায় পাখিদেরই মতো! তো চলুন দেখে নেই এমন ৫টি প্রাণী যারা ডানা ছাড়াই উড়তে পারে:

উড়ন্ত ব্যাঙ

৫. ব্যাঙ: লিস্টের ৫ম স্থানে রয়েছে ব্যাঙ। আমরা যেসব ব্যাঙ এর সাথে পরিচিত তারা শুধুমাত্র ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ ডাকতে পারে আর লাফাতে পারে। আর সেই ব্যাঙ যদি সুপারম্যানের মতো বাতাসে ভেসে বেড়ায় তবে তাকে দেখতে কেমন লাগবে? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এক প্রজাতির ব্যাঙ আসলেই উড়তে পারে। এরা হচ্ছে গেছো ব্যাঙ, গাছে গাছেই থাকে। এই ব্যাঙ সাধারণত দেখা যায় মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াতে। আর এদের উড়তে পারার কারন হল এদের ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠন। অন্যান্য ব্যাঙের চাইতে এরা দেখতে কিছুটা লম্বাটে। এদের হাত পা’ও একটু বেশীই লম্বা আর সেই লম্বা হাত পায়ের সাহায্যে সে ধাক্কা দিয়ে উঠে পড়ে শূণ্যে। এবং শূন্যে উঠার পর তাদের পায়ে থাকা পাতলা চামড়া (অনেকটা হাসের পায়ের মত) ছড়িয়ে দেয়। এতে করে এটি বাতাসে ভেসে পাড়ি দিতে পারে অনেকটা পথ। তারপর আবার যেখানে খুশি সেখানে নেমেও আসতে পারে নির্বিঘ্নে।

আরো পড়ুনঃ ৩৫ বছর ধরে একইভাবে ছবি তুলছেন পাঁচ বন্ধু

 

উড়ন্ত কাঠবিড়ালী

৪. কাঠবিড়ালী: লিস্টের পরবর্তী স্থানে রয়েছে কাঠবিড়ালী। কাঠবিড়ালীরা সাধারণত গাছের এডাল ওডাল সারাদিন ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে উড়ে বেড়ায়। তবে কিছুকিছু কাঠবিড়ালী এগাছ থেকে ওগাছে যাবার জন্য ব্যবহার করে তাদের উড়তে পারার ক্ষমতা। আর এইকাজে তাদের সাহাজ্য করে তাদের শরীরের ও লেজের গঠন। এদের লেজ এদের শরীরের থেকেও বড় ও লোমশ। উড়ার জন্য কাঠবিড়ালীরা কোন এক গাছের উঁচু ডাল থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং তাদের শরীরের দুইপাশে থাকা চামড়া প্রসারিত করে। ফলে শূন্যে ভাসতে থাকে। এক্ষেত্রে পানিতে নৌকার দিক নির্ণয় যেমন বৈঠার সাহায্যে করা হয়, তেমনি কাঠবিড়ালীরা তাদের মোটা লোমশ লেজটাকে ব্যবহার করে বাতাসে ভেসে থাকার সময় দিক ঠিক করার কাজে। লেজের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করে কিছুদূর গিয়ে কাঁঠবেড়ালী কাছের যে কোন স্থানে নেমে আসে। আর এ সময় বিড়ালের মতো কাঁঠবেড়ালীর পায়ের নিচে থাকা নরম মাংসপিন্ড তাকে সাহায্য করে নির্বিঘ্নে নেমে আসার জন্য।

আরো পড়ুনঃ জেনে নিন যেভাবে ফ্রিজে রাখা খাবার গরম করবেন

উড়ন্ত গিরগিটি

৩. গিরগিটি: লিস্টের ৩য় স্থানে রয়েছে গিরগিটি। গিরগিটি আছে নানান প্রজাতির। তার মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি উড়ে বেড়াতে পারে। যে সব গিরগিটি ভেসে ভেসে উড়ে বেড়াতে পারে তারা দৈহিক ভাবে কিছু বিশেষত্বের অধিকারী। এসব গিরগিটিদের শরীরের দুই পাশে থাকে একটু বাড়তি চামড়া। এই চামড়া অনেকটা পাখির ডানার মতো কাজে দেয়। এজন্য কোনো গাছের ওপরের দিকের ডাল থেকে এই গিরগিটিরা প্রথমে লাফ দেয় শূণ্যে। তারপর তার শরীরের দুপাশে ভাঁজ করে রাখা চামড়া মেলে দেয় দুপাশে, ঠিক যেন পাখির ডানার মতো। তারপর বাতাসের গতি এবং শরীরের ভরকে কাজে লাগিয়ে সে ঘুরে উড়ে বেড়ায় এদিক সেদিক। এই চামড়া আবার উড়ুক্কু গিরগিটিরা ভাঁজ করে লুকিয়ে রাখতে পারে তাদের শরীরের দুইপাশে। বোঝেন কাণ্ড! তাই শুধুমাত্র যখন বাতাসে ভেসে বেড়ানোর প্রয়োজন হয় তখনই এই অংশটুকু বের করে এরা আকাশে ভাসে!

উড়ন্ত মাছ

আরো পড়ুনঃ জেনে নিন পপকর্ন সম্পর্কে পাচঁটি অজানা তথ্য

২. মাছ: লিস্টের পরবর্তী স্থানে রয়েছে মাছ। (ধুর মিয়াঁ, কি কন? মাছ আবার উড়তে পারেনি। মাছ তো জলের বাইরেই থাকতে পারে না!!!) আরে ভাই হ্যাঁ, এ মাছ যেমন জলে থাকে আবার তেমনি উড়তেও পারে। বলছি ফ্লাইং ফিশের কথা। এই প্রজাতির মাছগুলোর দেখা মেলে মহাসাগরীয় উষ্ণ জলরাশি অঞ্চলে। ঘণ্টায় ৪২ মাইল গতিতে ১৩০০ ফুট উড়ে যাওয়ার রেকর্ডও রয়েছে এদের। এদের শরীর অনেকটা লম্বাটে এবং রয়েছে ডানাসদৃশ দুইটি পাখনা যা তাদের শরীরের চাইতেও বড়। ফ্লাইং ফিশের ফ্লাইটের টেকঅফ শুরু হয় পানির নিচ থেকেই। উড্ডয়নের প্রাক্কালে মাছটির নূ্ন্যতম গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় ৩৭ মাইল। এ গতিতে বাইরে এসে এরা তাদের পাখনার সাহায্যে উড়ে যেতে পারে অনেকটা পথ।

উড়ন্ত সাপ

১. সাপ: লিস্টের প্রথম স্থানে রয়েছে সাপ। সাপ হচ্ছে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী যারা বুকে ভর দিয়েই চলা ফেরা করে। সেই সাপকে যদি দেখা যায় বাতাসে ভেসে বেড়াতে তখন ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াবে? যেমনই দাঁড়াক, পৃথিবীতে এমন প্রজাতির সাপও আছে যারা বাতাসে ভেসে পথ পাড়ি দিতে পারে। আর এমন কিন্তু সাপ আমাদের দেশেও দেখতে পাওয়া যায়। এই সাপদের বলা হয়ে থাকে- উড়ুক্কু সাপ। এই উড়ুক্কু সাপ বিশেষ এক কৌশল অবলম্বন করে বাতাসে ভেসে থাকার জন্য। তাদের শারীরিক গঠনও একটু আলাদা ধরনের। এদের শরীর অন্যান্য সাপের তুলনায় অনেক হালকা। আর তা ব্যবহার করে এরা নিজের শরীরটাকে প্রথমে একেবারে কুঁচকে ফেলে। তারপর লেজের শেষ মাথা দিয়ে বিশেষভাবে মাটিতে জোরে ধাক্কা দিয়ে মাথাটাকে শূণ্যের দিকে দিয়ে শরীরের ভর টেনে নেয় সামনের দিকে। উড়ার সময় বাতাসে এরা তাদের শরীরটাকে কিছুটা প্রসারিত করে যার ফলে এরা উড়ে যেতে পারে নিজেদের গন্তব্য স্থানে। কি? ভয় লাগছে? অতটাও ভয়ের নয় এই সাপ। কারন উড়তে পারলেও এদের বিষ মানুষের জন্য অতটা বিষাক্ত নয়।

Check Also

স্মার্ট প্যান্টি

ধর্ষণ রুখতে স্মার্ট প্যান্টি তৈরি করল ভারতীয় ছাত্রী, খুলবে পাসওয়ার্ডে!

সাত বছরের শিশুর সঙ্গে দুষ্কর্মের ঘটনা মন ভেঙে দিয়েছিল ১৯ বছরের সিনু কুমারীর। তখন থেকে …